প্রশ্ন
আধ্যাত্মিক বরদানগুলোর যাচাই/পরীক্ষা/তালিকাকরণ/মূল্যায়নের কোনো মূল্য আছে কি?
উত্তর
ঈশ্বরের সন্তানদেরকে পবিত্র আত্মার দ্বারা যে আধ্যাত্মিক বরগুলো দেওয়া হয়েছে, তা জানার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, কারণ এই বরদানগুলো ঈশ্বরকে সেবা ও মহিমান্বিত করার জন্য দেওয়া হয় (২তিমথিয় ১:৬ পদ)। তবে, বাইবেলে কোথাও নির্দেশ দেয় না যে, আধ্যাত্মিক বরদানগুলো কোনো পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বরদানগুলো মূল্যায়ন সাধারণত একই পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। বরদানগুলো মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি একটি বিবৃতি বা প্রশ্নের তালিকার উত্তর দেন। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পর, প্রতিটি উত্তরের জন্য একটি সংখ্যা মান নির্ধারণ করা হয়, যা গণনা করে আধ্যাত্মিক বরদানগুলো নির্ধারণ করা হয়।
এর বিপরীতে, বাইবেল শিক্ষা দেয় যে, পবিত্র আত্মা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী আধ্যাত্মিক বরদান প্রদান করেন, এবং তিনি বিশ্বাসীদেরকে অন্যদের সেবা করার জন্য যেভাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন, সেই অনুযায়ী এই বরদানগুলো প্রদান করেন।
আধ্যাত্মিক বরদানগুলো যাচাই করে দেখার পদ্ধতিগত একটি সমস্যা হলো, আজকের দিনে খ্রীষ্টিয়ানদের মধ্যে দৃশ্যমান আধ্যাত্মিক বরদানগুলো সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত রয়েছে। যেমন- এগুলোর সংখ্যা কত, এগুলোর প্রকৃত অর্থ কী, কিছু বরদান এখনও কার্যকর আছে কি না, এবং খ্রীষ্টের তাঁর মন্ডলীকে দেওয়া বরদানগুলোকে (ইফিষীয় ৪:১১ পদ) আধ্যাত্মিক বরদানের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত কি না। এই মূল্যায়নগুলোতে এই বিষয়গুলো খুব কমই আলোচনা করা হয়। আরেকটি বিবেচনার বিষয় হলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ নিজেকে অন্যদের চেয়ে ভিন্নভাবে দেখতে পছন্দ করে, যা একজনের আধ্যাত্মিক বরদান মূল্যায়নে একটি ভুল ফলাফল এনে দিতে পারে।
আধ্যাত্মিক বরদান নির্ধারণের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহারের তৃতীয় একটি সমস্যা হলো- এই বরদানগুলো ঈশ্বরের কাছ থেকে পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আসে, এবং পবিত্র আত্মা যাকে ইচ্ছা করেন তাকেই এই বরদানগুলো দেন (১করিন্থীয় ১২:৭-১১ পদ)।যোহন ১৬:১৩ পদে প্রভু যীশু বিশ্বাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, পবিত্র আত্মা তাদের সমস্ত সত্যের পথে পরিচালিত করবেন। তাই এটা যৌক্তিক যে, যেহেতু পবিত্র আত্মাই নির্ধারণ করেন কে কোন বর পাবে, তিনি আমাদের থেকে আরও বেশি আগ্রহী যে আমরা আমাদের বরগুলো কী তা খুঁজে বের করি। বাস্তবে, আমরা কতটা "বরদানপ্রাপ্ত" তা জানার প্রতি আমাদের কৌতুহলী মনোভাব অনেক সময় আমাদের নিজের গুরুত্ব নিয়ে অহংকারী চিন্তা দ্বারা প্রভাবিত হয়।অন্যদিকে, পবিত্র আত্মা চান আমরা আমাদের আধ্যাত্মিক বর বা উপহারগুলো সম্বন্ধে জানি, যা সবসময় আমাদের কল্যাণের জন্য এবং এমনভাবে কাজ করার জন্য যা পিতাকে মহিমা ও সম্মান এনে দেয়।
যদি আমরা প্রার্থনার মাধ্যমে, সহভাগিতার মাধ্যমে, ঈশ্বরের বাক্য অধ্যয়নের মাধ্যমে, এবং ঈশ্বরের দাসদের শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে ঈশ্বরের দিকনির্দেশনা খুঁজি, তাহলে আমাদের আধ্যাত্মিক বর বা উপহারগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে।ঈশ্বর আমাদের অন্তর বা প্রাণের ইচ্ছাগুলো পূর্ণ করেন (গীতসংহিতা ৩৭:৪ পদ)।এর অর্থ এই নয় যে, ঈশ্বর আমাদের যা কিছু ইচ্ছা বা আকাঙ্খার তা-ই দেন; বরং এর অর্থ হলো, তিনি আমাদের হৃদয়ে সঠিক ইচ্ছাগুলো স্থাপন করতে পারেন এবং করবেন। তিনি আমাদের হৃদয়ে শিক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা, দান করার ইচ্ছা, প্রার্থনা করার ইচ্ছা, সেবা করার ইচ্ছা ইত্যাদি দিতে পারেন। আমরা যখন সেই ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করি এবং আমাদের বরদানগুলোর ব্যবহারে সত্যিই ঈশ্বরের মহিমার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকি, তখন ইতিবাচক ফলাফল দেখা যাবে—খ্রীষ্টের নাম উন্নত হবে এবং ঈশ্বর স্বয়ং মহিমান্বিত হবেন।
English
আধ্যাত্মিক বরদানগুলোর যাচাই/পরীক্ষা/তালিকাকরণ/মূল্যায়নের কোনো মূল্য আছে কি?