কুমারীর গর্ভে জন্ম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?



প্রশ্ন: কুমারীর গর্ভে জন্ম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর:
কুমারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সম্পর্কিত মতবাদ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ (যিশাইয় ৭:১৪; মথি ১:২৩; লূক ১:২৭, ৩৪ পদ দ্রষ্টব্য)। প্রথমে আমরা দেখি, শাস্ত্র এই ঘটনা কিভাবে বর্ণনা করেছে। যেমন, মরিয়মের প্রশ্ন ছিল, “এ কেমন করে হবে? আমার তো বিয়ে হয় নি।” স্বর্গদূত গাব্রিয়েল বলেছিলেন, “পবিত্র আত্মা তোমার উপরে আসবেন এবং মহান ঈশ্বরের শক্তির ছায়া তোমার উপরে পড়বে” (লূক ১:৩৫ পদ)। স্বর্গদূত যোষেফকে সাহস দিয়ে বলেছিলেন যেন তিনি মরিয়মকে বিয়ে করতে ভয় না পান। তিনি একথা বলে সাহস দিয়েছিলেন: “তাঁর গর্ভে যা জন্মেছে তা পবিত্র আত্মার শক্তিতেই জন্মেছে” (মথি ১:২০ পদ)। আবার, মথি বর্ণনা করেছেন যে, পবিত্র আত্মার শক্তিতেই মরিয়মের গর্ভ হয়েছিল (মথি ১:১৮ পদ দ্রষ্টব্য)। আবার, গালাতীয় ৪:৪ পদেও কুমারীর গর্ভে জন্ম নেবার কথা আমাদের শিক্ষা দেয়: “কিন্তু সময় পূর্ণ হলে পর ঈশ্বর তাঁর পুত্রকে পাঠিয়ে দিলেন। সেই পুত্র স্ত্রীলোকের গর্ভে জন্মগ্রহণ করলেন”।

এই পদগুলো থেকে এই বিষয় একেবারে সুস্পষ্ট যে, যীশুর জন্ম পবিত্র আত্মা থেকে হয়েছিল ও মরিয়মের শরীরের মধ্যে কাজ করেছিল। এক দেহহীন (পবিত্র আত্মা) দেহের মধ্যে (মরিয়মের গর্ভে), তার অর্থ, উভয়ে একসাথে জড়িত। অবশ্য মরিয়ম তার নিজের ইচ্ছমত গর্ভধারণ করেন নাই, তাই বলা যায়- ঈশ্বর মরিয়মের গর্ভকে “একটা পাত্র” হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন। মানুষ হয়ে আসার জন্য শুধুমাত্র ঈশ্বর অলৌকিক কাজ করতে পারেন।

যাহোক, মরিয়মের সাথে যীশুর জাগতিক সম্পর্ক অস্বীকার করে একথা বলা যায় যে, যীশু শুধুমাত্র মানুষ ছিলেন না। শাস্ত্র শিক্ষা দেয় যে, যীশু পুরোপুরি মানুষ, আমাদের মত তাঁর দেহ ছিল। এটা তিনি মরিয়মের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। একই সাথে যীশু পুরোপুরি ঈশ্বর, যাঁর ছিল পাপশূন্য অনন্তকালীন স্বভাব (যোহন ১:১৪; ১ তীমথিয় ৩:১৬; ইব্রীয় ২:১৪-১৭ পদ দ্রষ্টব্য)।

যীশু পাপে জন্মগ্রহণ করেন নাই; তার মানে, তাঁর কোন পাপ ছিল না (ইব্রীয় ৭:২৬ পদ দ্রষ্টব্য)। অন্যদিকে, পাপ স্বভাব পিতার মধ্য দিয়ে বংশের পর বংশ ধরে চলে আসছে (রোমীয় ৫:১২, ১৭, ১৯ পদ দ্রষ্টব্য)। তাই, কুমারীর গর্ভে জন্ম পাপ স্বভাবের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়েছে এবং অনন্তকালীন ঈশ্বরকে খাঁটি মানুষে পরিণত করেছে।



বাংলা হোম পেজে ফিরে যান



কুমারীর গর্ভে জন্ম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?